অতঃপর মৃত্যু এসে ছুঁয়ে গেল তাঁকে


মির্জা রুমন
অতঃপর মৃত্যু এসে ছুঁয়ে গেল তাঁকে

অভিনেতা আবদুল কাদের (ফাইল ছবি)

  • Font increase
  • Font Decrease

আরও ছয়টা মাস বেঁচে থাকার আকুতি ছিল তাঁর। হলো না, মৃত্যু এসে ছুঁয়ে গেল তাঁকে । ৬৯ বছর বয়সে নিভে গেল অভিনেতা আবদুল কাদেরের জীবন প্রদীপ।

মৃত্যুর মাত্র ২ দিন আগেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংবাদে আবদুল কাদের তাঁর আরও ছয়টা মাস বেঁচে থাকার আকুতির কথা জানিয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি চেয়েছিলেন তাঁর পরিচিত সবাইকে একনজর দেখতে। কাছের মানুষ, আত্মীয়স্বজন, নাট্যঙ্গনের বন্ধুরা, কর্মজীবনের সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে চেয়েছিলেন তিনি। তা আর হলো না।

অভিনেতা আবদুল কাদের তাঁর অভিনয় দক্ষতায় হয়ে উঠেছিলেন এদেশের বিনোদন প্রিয় মানুষের কাছের মানুষ। কারো কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন বিখ্যাত ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’ এর বদি, কিংবা ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকের দুলা ভাই অথবা জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি এর মামা চরিত্রের জন্য।

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি এর মামা চরিত্রে অভিনেতা আবদুল কাদের 

এই জনপ্রিয় অভিনেতা ১৯৫১ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার সোনারং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর সিঙ্গাইর কলেজ ও লৌহজং কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। পরে বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগ দেন। বিটপী ছাড়ার পর তিনি ৩৫ বছর বাটায় কাজ করেন।

আবদুল কাদের নাটক, বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র তিন মাধ্যমেই ছিলেন জনপ্রিয়। থিয়েটারের প্রায় ৩০টি প্রযোজনায় ১০০০টিরও বেশী প্রদর্শনীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তাঁর অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘মাটির কোলে’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘শীর্ষবিন্দু’, ‘সবুজ সাথী’, ‘তিন টেক্কা’, ‘যুবরাজ’, ‘আগুন লাগা সন্ধ্যা’, ‘এই সেই কণ্ঠস্বর’, ‘আমার দেশের লাগি’, ‘সবুজ ছায়া’, ‘দীঘল গায়ের কন্যা’, ‘ভালমন্দ মানুষেরা’, ‘দূরের আকাশ’, ‘ফুটানী বাবুরা’, ‘এক জনমে’, ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’, ‘ফাঁপড়’, ‘চারবিবি’, ‘সুন্দরপুর কতদূর’, ‘ভালোবাসার ডাক্তার’, ‘চোরাগলি’, ‘বয়রা পরিবার’ ইত্যাদি।

 বিখ্যাত ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’ এর বদি চরিত্রে অভিনেতা আবদুল কাদের

২০০৪ সালে আবদুল কাদের অভিনয় করেন ‘রং নাম্বার’ চলচ্চিত্রে। অভিনয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের কাজও করেছেন এ সফল অভিনেতা।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে টেনাশিনাস পদক, মহানগরী সাংস্কৃতিক ফোরাম পদক, অগ্রগামী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পদক, যাদুকর পি.সি. সরকার পদক, টেলিভিশন দর্শক ফোরাম অ্যাওয়ার্ড, মহানগরী অ্যাওয়ার্ডসহ বেশকিছু পদকও পেয়েছিলেন তিনি। 

অভিনেতা আবদুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে 'ব্যাক পেইন' এ ভুগছিলেন। গত ৮ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ১৫ ডিসেম্বর সেখানকার হাসপাতালেই আবদুল কাদেরের ক্যানসার আক্রান্তের খবর জানতে পারেন তিনি ও তাঁর পরিবার। জানা যায় তাঁর ক্যানসার রয়েছে চতুর্থ স্তরে এবং তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২০ ডিসেম্বর আবদুল কাদেরকে দেশে ফেরত নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁর পরিবার। শারীরিক দুর্বলতার কারণে ভারতের হাসপাতালে কেমোথেরাপি নেননি তিনি। দেশে ফিরে এদিনই তাঁকে ভর্তি করানো হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। এরপর থেকে সেখানেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা।

তবে সবাইকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে ২৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টা ২০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী অভিনেতা।